Wednesday, January 23, 2008

এলোমেলো আজকের আমি - কষ্ট পাচ্ছি

অফিসের ফাইল গুলোকে ফর্দা ফাই করা আজকের প্রথম কাজ । তারপর আবেদন পত্র দুটো পাঠাতে হবে। আর বাচ্চাদের জন্য "অভূতপূর্ব " স্বাস্থ্য কার্যক্রমটা পুরো পুরি নিজের মাথা খাটিয়ে তৈরী করা । আলহামদুলিল্লাহ! কাজ জমে গেছে অনেক এত দিনে। ব্লগিং এর ফল । :(

বন্ধু ব্লগারদের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে এই অবস্থা । আন্দোলন এর আগে থেকেই যাই যাই করছিলাম । ( সে তো কবে থেকেই করছি) । তবে পর পর দুটো বিশাল আঘাত মনে করিয়ে দিলো "কেউ কারো নয়" । ঠিক । কেউ আমার তো নয় , আমি ছাড়া । সুতরাং আমার এখন আমার নিজেকে বাঁচানো দরকার । মরতে বসেছি। একটা অফিসে । একটা বাসায় ।

কিন্তু ব্লগ নিজেও কম আঘাত করেনি । অনেক গুলো মানুষকে ভীষন বিশ্বাস করে তাদের জন্য অনেক অপমান, কষ্ট , গালি গালাজ সহ্য করেছি । সবার উপরে বাংলাদেশ আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় । এই দেশটার জন্য আমার পরিবার কম ত্যাগ সহ্য করেনি। দাদু বাড়ি এবং নানু বাড়ি - দুই দিকেই অগণীত মুক্তিযোদ্ধা । মামারা যুদ্ধে গেছেন বলে নানাকে মেরে ফেললো । আব্বুর জন্য চাচাকে । যুদ্ধ করতে করতে মারা গেলো কতজন! এই বিশাল দুটো পরিবারের শাখা প্রশাখা তছনছ হয়ে গেছে । ছোট ছোট বাচ্চা গুলো অকল্পনীয় কষ্টে, দারিদ্রে, বাবার স্নেহ বঞ্চিত হয়ে বড় হলো । সেই দেশটাকে জামায়াত - শিবির- নিওরাজাকারদের হাতে চলে যেতে দেখছি প্রতিদিন! ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে যেতে থাকে প্রতিক্ষণে । বাস্তবের মাটি , ১৫ কোটি মানুষকে তো রক্ষা করতে পারছি না। কিন্তু , ব্লগের ভার্চুয়াল মাটিতে অন্তত এই শিয়াল, শকুন, বরাহ , নেকড়েদের একটা মাইরের উপর রেখে বুঝিয়ে দিতে ইচ্ছে করে - এত সহজ নয় দখল । যতদিন একজনও বাঙালী থাকবে, ততদিন ঐ "বিদেশী প্রভুদের" পদলেহন করে , ওদের টাকায় , ওদের দেওয়া কৃত্রিম নিরাপত্তা , সমর্থন নিয়েই থাকতে হবে তোদের ।

সুযোগ এবং শক্তি ফিরে পাওয়া মাত্র বাঙালী আবার তোদের কবরে পাঠাবে। সেই ৭১ এর মত । নাহ, কি লিখতে বসে কি লিখছি! আবেগ বড় এলোমেলো খেলছে । নাহ, আজ আর লিখবো না । কাজ করা দরকার। শুধু এইটুকু জানিয়ে রাখি । ব্লগে যারা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে গলায় রক্ত তোলে, তাদের আসল রুপ আমার সামনে তুলে ধরা হয়েছে ! আমি হতভম্ব ! এ আমি কাদের জন্য লড়ছি? কাদের সাথে লড়ছি?

ছিঃ ছিঃ ছিঃ !

কোথায় আমার সর্বজন শ্রদ্ধেয় বাবা, মামা, চাচা, খালামনি , মামনি ! আর কোথায় এই সব ইতর জানোয়ার ! শিক্ষা বা রুচি - কোনটাই কোন দিন পেয়েছিলো কিনা সন্দেহ জাগে। আদর্শ ? নীতি ? ন্যায় ? সততা? কোথায় এই সব ! কিচ্ছু নেই । সবটাই "নোংরা মজা নেওয়া "। শয়তানি করা । আর এই শয়তানির আনন্দ পাওয়ার জন্য "মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার " । "স্বাধীনতার পক্ষে আছি" - স্রেফ এই ঢাল ব্যবহার করে সব কিছু করা যায়? অন্তত , সেই রকমই প্রমান পাওয়া গেলো । কেউ করছে , আর বাকিরা হাতে তালি দিয়ে মজা করছে । ছিঃ ।

রাজাকার গুলা এই সব করে । আমি ওদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশাও করি না । ইবলিশ তো ইবলিশের কাজই করবে । কিন্তু , যারা মানবতা, সাম্য, সততা, ন্যায়ের জন্য লড়ে - তারা এই রকম করবে কেন?

আমার যুদ্ধ তাই বলে থামবে না । তবে , আপাতত "স্থগিত"। নোংরামি করে ওরা কতদুর যেতে পারবে , আমি জানি । নোংরা পথে কোন দিন মহৎ কিছু অর্জন করা যায় না । জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম, ধর্মনিরপেক্ষতা আর সামাজিক ন্যায়বিচার, সাম্যের উপর দাঁড়ানো একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র !

এই না আমার স্বপ্নের বাংলাদেশ!

আদর্শহীন মানুষ দিয়ে এইটা অর্জন হয় কি করে? একে অন্যের উপর কিংবা চতুষ্পদী জন্তুর মত সারাক্ষন উপগত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে স্বাধীনতার সম্মান রক্ষা হবে! হায় রে !

আমি খুশি আমার মুক্তিযোদ্ধারা কবর থেকে এই সব দেখছেন না । দেখলে , এই সমাজ, এই রুচি, এই ন্যায়বোধ , এই শিক্ষা , এই সম্মানবোধের জন্য প্রান দিয়েছেন ভেবে হয়ত আত্মহত্যাই করতেন আবার!

আমার বাংলাদেশ , তাজিয়ার মিছিলে এখন আর হায় হাসান , হায় হুসেন না - হায় বাংলাদেশ বলে হাহাকার করে মন!

2 comments:

সাইফুর said...

তবে পর পর দুটো বিশাল আঘাত মনে করিয়ে দিলো "কেউ কারো নয়" । ঠিক ।
-------------------------

কেউ কারো নয়..সক সময় ঠিক না
হয়ত বেশীরভাগ সময় এটা ঠিক

অনেক মানসিক কষ্টে আছেন ..বুঝতে পারছি.......

debdaru said...

khub bhalo laglo..........